মরণ নেশা ইয়াবা এখন ফ্রান্সে ! আমদানি হচ্ছে ইটালি ও লন্ডন থেকে দেখুন এ নিয়ে সম্পূর্ণ প্রতিবেদন দ্বিতীয় ও শেষ পার্ট

by Lesar on নভেম্ভর ২৩, ২০১৩পোস্ট টি ৪৩৪ বার পড়া হয়েছে in ফ্রান্সের নিউজ,দূতাবাস ও ইম্মিগ্রেশন তথ্য

প্রিয় আমিওপারি পাঠক বৃন্দ মহান আল্লাহ্‌ তালার নাম নিয়ে শুরু করছি। সবাই আমাদের সালাম গ্রহণ করবেন।আশা করি আপনারা সবাই ভালো আছেন। আমিওপারির সাথে প্যারিসের প্যারিস বাঙ্গালির যৌথ উদ্যোগে আপনাদের জন্য আমরা একটি প্রতিবেদন করেছিলাম। কিভাবে ফ্রান্সে মরণ নেশা ইয়াবা আমদানি হচ্ছে ইতালি ও লন্ডন থেকে। আজ আমরা এর দ্বিতীয় পর্ব নিয়ে আপনাদের কাছে হাজির। যেখানে আপনি জানতে পাড়বেন কিভাবে এবং কোন পদ্ধতিতে এটি ইউরোপে প্রবেশ করছে। আর যারা এর আগের পর্বটি দেখেন নি তারা চাইলে এখানে ক্লিক করে দেখে নিতে পারেন।

ফ্রান্সে কিভাবে বাংলাদেশ থেকে বিভিন্ন অভিনব পদ্ধতিতে ইয়াবা প্রবেশ করানো হয় তার চাঞ্চল্যকর কিছু তথ্য নিয়ে প্যারিস বাঙ্গালী করছে প্রতিবেদন, আজ দেখুন এর দ্বিতীয় এবং শেষ পর্ব।

কিছুদিন আগের দেয়া ‘ইয়াবা এখন ফ্রান্সে’ সঙ্ক্রান্ত একটি খবর প্রচার করে প্যারিস বাঙ্গালী আপনাদের যথেষ্ট ইতিবাচক সারা পেয়েছে প্রথম পর্বে , তাই আপনাদের অনুপ্রেরণা পেয়ে মনে হোল এই খবরটির দ্বিতীয় অংশ আপনাদের কাছে পৌঁছনোর আগে সম্পূর্ণ ভাবে ইয়াবা কিভাবে বাংলাদেশ থেকে ইটালি ও লন্ডন হয়ে ফ্রান্সে আসে তা একটু ভালো করে যাচাই করে নেই। শুরু করল এই রিপোর্ট লেখার জন্য প্যারিস বাঙ্গালী সরজমিনে অভিযান, কিভাবে প্যারিসে পাওয়া যায় একজন বাংলাদেশী ইয়াবা বিক্রেতা। বেশী বেগ পেতে হোল না এ জন্য ! তার আগে বলে নেই উপরে যে, ইয়াবার ছবি গুলি দেখছেন তা প্যারিসের একজন ইয়াবা বিক্রেতার কাছ থেকে কেনা এই রিপোর্টি লেখার জন্য সারসেল গার থেকে। ইয়াবার আবির্ভাব ঘটে ফ্রান্সে ২০১২ সালের জুন মাসের ইল-দে-ফ্রাঞ্চের ক্রিতাইল বিলের মেজোআলফত এলাকায়। আর তখন ফ্রান্সে ইয়াবা আসত ইটালি থেকে দুই তিন মাস পরপর এবং এখন কার তুলনায় যার সংখ্যা ছিল খুবেইকম । কিন্তু আস্তে আস্তে যখন ফ্রান্সে লোক সম্মুখে ইয়াবা পরিচিতি লাব করতে থাকে ও যখন ফ্রান্সে বসবাসরত বাংলাদেশীরা এই মরন নেশা ইয়াবার প্রতি আসক্ত হয় ইয়াবা চাহিদা দীগুণ হয়ে পরে প্যারিস,তুলুজ,লিয়ন ও নিছ শহর গুলিতে । আর তারেই ধারাবাহিগতায় যথারীতি ইয়াবার ব্যাবসা করতে থাকে বর্তমানে ফ্রান্সে বসবাসরত বেশ কিছু ব্যাবসায়ী । মাদকের জগতে ইয়াবা খুবই নতুন তাই ইউরোপিয়ান দের কাছে সম্পূর্ণ অপরিচিত যদিও ইয়াবার আবির্ভাব হয়েছে জার্মানিতে । ইটালি,লন্ডন ও ফ্রান্সে বসবাসরত কিছু সংখ্যক ব্যাবসায়ক এই মাদক ছড়িয়ে দিচ্ছে ইউরো জুড়ে আর ধ্বংস করছে ইউরোপে থাকা বাংলাদেশী ফুলকে ( মানুষ ) ।

ফ্রান্সে ইয়াবা বিক্রি হয় বেশকিছু উল্লেখযোগ্য স্থানে, তার মধ্যে প্যারিসের গার দু নর্দ উল্লেখযোগ্য স্থান গুলোর মধ্যে অন্যতম এবং এখান থেকে ছড়িয়ে পড়ছে ফ্রান্সের আরও বেস সঙ্খক এলাকায় । গার দু নর্দের পাশাপাশি ইল-দে-ফ্রাঞ্চের অন্তর্গত সেন্দেনী ও সারসেল গারে ইয়াবা বিক্রি হচ্ছে হরদমে । বাবা ( ইয়াবা) বিক্রেতারা এতটাই তীক্ষ্ণ বুদ্ধি সম্রুন যে, তারা যে স্থানে থাকে সে স্থানে ইয়াবা কখনও মজুদ রাখেনা । ফ্রান্সের সরকারি কিছু বাসভবনে ( যাকে ফ্রান্সের ভাষায় ফয়ার বলে থাকে সেরকম স্থানে ) থাকা লোকের কাছে রাখে ইয়াবার মজুদ, বাবা ( ইয়াবা ) ব্যাবসায়িরা এবং এই ইয়াবা ফয়ারে রাখার জন্য প্রতি মাসে ফ্রী বাবা ( ইয়াবা ) সেবন ও ২ থেকে ৩ শত ইউরো দেয় তাদের । মরন নেশা ইয়াবাকে মজুদ রাখার জন্য ফয়ারের বাসা বেছে নেয়ার পেছনে মূল কারণ হল, এই ধরণের সরকারী ফয়ারের বাসায় বিভিন্ন দেশ থেকে আসা রাজনৈতিক আশ্রয়ের জন্য আবেদন কারীরা থাকে এবং তারা জাতিসঙ্ঘ দ্বারা পরিচালিত । তাই পুলিশ কিংবা প্রশাসনের কোন হস্তক্ষেপ নেই ফয়ারে খুব বেশি । এই ইয়াবা ব্যাবসায়িরা দেধারসে খুবই সাধারন ভাবে নিয়মিত সেই সব ফয়ারের বাসা থেকে ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী ইয়াবা নিয়ে এসে গার দো নর্দ ও ইল-দে-ফ্রাঞ্চের বেশ কিছু গারে সাপ্লাই দেয় । সবচেয়ে বড় ব্যাপারটি হল এই ইয়াবা ব্যাবসায়ি দের কাছে অর্ডার দিলে তারা বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে হাতে হাতে সাপলাই দিয়ে থাকে। আপনাদের প্রথম পর্বেই বলেছি যে, ইয়াবার আকৃতি অনেক ছোট হওয়ার কারণে একটি প্যান্টের পকেটে কম করে হলেও ১০০ পিস ইয়াবা রাখা যায়। প্রতিদিন এই ইয়াবা ব্যাবসাইরা গড়ে ২০০ থেকে ৩০০ ইয়াবা বিক্রি করে থাকে প্যারিস শহরে। প্যারিস বাঙ্গালীর পর্যবেক্ষণ কালীন এই চাঞ্চল্যকর তথ্য বের হয়ে আসে।

ফ্রান্সের ইয়াবা প্রতিবেদনের জন্য প্যারিস বাঙ্গালী টিম অনেক কৌশল অবলম্বন করে এবং চাঞ্চল্যকর আরও তথ্য পেতে এক বাংলাদেশী যিনি এই ব্যাবসার একজন অন্যতম রাঘব বোয়াল, তার সাথে কৌশলে সময় কাটায় । একটি সময় কৌতুহল বসত তাকে জিজ্ঞাস করা হলে, কিভাবে এই ইয়াবা ফ্রান্সে আসে এবং কি পরিমাণে? তিনি একটু মুচকি হেসে বলতে থাকলেন………… তার ভাষায় –

ইউরোপে থাকা কিছু সঙ্খক প্রভাবশালী বাংলাদেশীরা বাংলাদেশ থেকে খাবার পণ্য ইউরোপে আনে, এই পণ্য এর ভীতরে করে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে পাচার করে নিয়ে আসছে হাজার হাজার ইয়াবা। আর এর মধ্যে ইতালি ও লন্ডন আছে সবার শীর্ষে। অনেক আগ্রহের সাথে, তার কাছ থেকে সম্পূর্ণ বিস্তারিত ভাবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, শুঁটকি মাছের প্যাকেটে করে ইয়াবা নিয়ে আসা সব চাইতে নিরাপদ। এছাড়া বিভিন্ন গুঁড়া দুধের টিনের কৌটার ভিতরে করে, আঁচারের বৈয়মে করে ও বাংলাদেশ থেকে আশা শাক সবজীর কার্টনের ভীতরে সহ আরও অন্নান্য অনেক জাতের পণ্যের মধ্যে করে বাংলাদেশ থেকে । আর বাংলাদেশের কাস্টমস কর্মকর্তাদের মোটা অংকের ঘুষ খাইয়ে নিরাপদ ও স্পেশাল সার্ভিসের মাধ্যমে ইমিগ্রেশন পার করা হয়।ইউরোপিয়ান রেসিডেন্স এবং ইনটারনেশনাল বিজনেস লাইসেন্স থাকার কারনে শুধু ট্যাক্স ফী দিয়েই অবলীলায় প্রতিনিয়তই পাচার করে যাচ্ছে এই মরন নেশা ইয়াবা ইউরোপে । তিনি আরও জানান যে, লন্ডন থেকে যে সব কার্গো গুলি আসে মাল নিয়ে সেই কার্গোতে ও লা পোস্টের মাধ্যমে লন্ডন থেকে আসে ইয়াবা । আর লা পোস্টের ( পোস্ট অফিস ) মাধ্যমে লন্ডন থেকে আনা খুবেই সহজ কিন্তু খরচ বেশী পরে বললেন এই ব্যাবসায়িক । ইয়াবার চালান প্রবেশ করে ইটালি থেকে বেশী আসে ফ্রান্সে কারণ ইটালি ও ফ্রান্সের যাতায়েত খুবই সহজ । ইটালিতে ইয়াবা পাওয়া যায় ২০০৯ সাল থেকে, এই ইয়াবা ফ্রান্সে আসে অনেকে ঘুরতে যায় ও আসে ইটালি ও ফ্রান্সে তাদের মারফৎ হয়ে। আর সচেয়ে বড় ব্যাপার হল ইয়াবা ব্যাবসায়িক নিজেরা যায় অনেক সময়। গত মাসের ২৬ ( অক্টোবর ) তারিখ একটি বড় চালান আনে ফ্রান্সে একজন ইয়াবা ব্যাবসায়ি, সেই ইয়াবার ছবি দেখছেন উপরের ।

আপনারা নিশ্চয়ই বুঝতে পারছেন যে, কি হারে এবং কত সহজ উপায়ে প্রতিদিন কয়েকশো ইয়াবা ফ্রান্সে বিক্রি হচ্ছে ! আপনাদের প্রথম পর্বেই জানিয়েছি যে, এই মরন নেশা ইয়াবা মানুষের শরীরের জন্য কতটুকু ক্ষতিকর। ইয়াবা একজন স্বাভাবিক মানুষকে খুব তারাতারি মৃত্যুর দিকে ধাবিত করে। তাই যারাই এই সব ইয়াবা ব্যাবসাইদের কাছ থেকে ইয়াবা কিনে সেবন করছেন তাদের অনুরধ করে বলছি…. আমরা যারা আমাদের নিজের মা, বাবা, আত্মীয় স্বজন, বন্ধু বান্ধব ও চীর চেনা নিজের মাতৃভূমির মোহকে বিসর্জন করে বছরের পর বছর প্রবাসে জীবন যাপন করছি, তাদের সবারই একটা ব্যাপারে সব সময় খেয়াল রাখতে হবে যে, এই প্রবাসে আমাদের সুস্বাস্থ্যই আমাদের মূল সম্পদ। তাই এই সাস্থকে সুস্থ ও সুন্দর রাখার দায়িত্বও আমাদের নিজের। আমাদের আরও একটা ব্যাপার মাথায় রাখতে হবে যে, আমাদের মাতৃভূমিতে আমরা যাদের স্নেহ ও ভালবাসা ত্যাগ করে এই প্রবাস জীবন কাটাচ্ছি, তারা কিন্তু মনের ভীতর অনেক আশা আখাঙ্কা নিয়ে অধীর আগ্রহের সাথে আমাদের দেশে ফেরার অপেক্ষায় আছেন। তাই নিজেকে একজন সুস্থ মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার চেষ্টা করুন এবং এই মরন নেশা ইয়াবা সেবন থেকে বিরত থাকুন।

[[ আপনি জানেন কি? আমাদের সাইটে আপনিও পারবেন আপনার নিজের লেখা জমা দেওয়ার মাধ্যমে আপনার বা আপনার এলাকার খবর তুলে ধরতে এই লেখায় ক্লিক করে জানুন এবং  তুলে ধরুন। নিজে জানুন এবং অন্যকে জানান। আর আমাদের ফেসবুক ফ্যানপেজে রয়েছে অনেক মজার মজার সব ভিডিও সহ আরো অনেক মজার মজার টিপস তাই এগুলো থেকে বঞ্চিত হতে না চাইলে এক্ষনি আমাদের ফেসবুক ফ্যানপেজে লাইক দিয়ে আসুন। এবং আপনি এখন থেকে প্রবাস জীবনে আমাদের সাইটের মাধ্যমে আপনার যেকোনো বেক্তিগত জিনিসের ক্রয়/বিক্রয় সহ সকল ধরনের বিজ্ঞাপন ফ্রিতে দিতে পাড়বেন। ]]

InstaForex *****লেখাটি ভালো লাগলে আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুণ!*****

সম্পর্কিত আরো কিছু পোস্ট দেখতে পারেন...

প্যারিসে ট্রেন দুর্ঘটনায় নিহত ৭ (ভিডিও)
মরণ নেশা ইয়াবা এখন ফ্রান্সে ! আমদানি হচ্ছে ইটালি ও লন্ডন থেকে দেখুন এ নিয়ে সম্পূর্ণ প্রতিবেদন পার্ট ...
ফ্রান্স সহ সমগ্র ইউরোপের অত্যন্ত প্রিয়ভাজন ব্যক্তি শহীদুল ইসলাম মানিক আজ ২০শে নভেম্বর সন্ধ্যা সাতটায়...
টমেটোর মধ্যে মহান আল্লাহ্‌র নাম। আমিওপারির নিয়মিত এক পাঠকের সাথে গতকাল ঘটা এই ঘটনা। দেখুন ভিডিওটি
ফ্রান্সে সিলেট সমিতির বনভোজন ও সমুদ্র ভ্রমন অনুষ্ঠিত
ফ্রান্সের প্যারিসে 'বাংলা ডে' অনুষ্ঠিত

এই লেখাটি লিখেছেন...

– সে এই পর্যন্ত 1176 টি পোস্ট লিখেছেন এই সাইট এর জন্য আমিওপারি ডট কম.

আমিওপারি নিয়ে আপনাদের সেবায় নিয়োজিত একজন সাধারণ মানুষ। যদি কোন বিশেষ প্রয়োজন হয় তাহলে আমাকে ফেসবুকে পাবেন এই লিঙ্কে https://www.facebook.com/lesar.hm

লেখকের সাথে যোগাযোগ করুন !

আপনার মন্তব্য লিখুন

{ 0 comments… add one now }

Leave a Comment