স্টুডেন্ট ভিসা নিয়ে যারা কানাডা আসতে চান তাদের জন্য কিছু টিপস!!

by Lesar on আগস্ট ৪, ২০১৪পোস্ট টি ২,৩৪৬ বার পড়া হয়েছে in ইউরোপ ও আন্নান দেশে উচ্চ শিক্ষা

লিখেছেন মাহবুব কানাডা থেকেঃ স্টুডেন্ট ভিসায় কানাডা আসার কথা যদি বিবেচনা করে থাকেন তাহলে কিছু কিছু বিষয় আপনাকে লক্ষ রাখতে হবে। যারা স্কলারশীপ নিয়ে আসেন তাদের কথা ভিন্ন তবে যারা নিজের ফান্ডিং নিয়ে আসেন তাদের জন্য একটু সমস্যা বৈ কি। কারণ কানাডা আসার পর প্রথম ৬ মাস আপনি কোন অফ ক্যাম্পাস চাকরি করতে পারবেন না। অন ক্যাম্পাস চাকরি করা যাবে। তবে ক্যাম্পাসে চাকরি পাওয়াটা একটু সময়ের ব্যপার। যেমন অনেক সময় দেখা গেল যে চাকরির নোটিশ দেয়া হয়েছে কিন্তু হঠাৎ করেই দেখা গেল অ্যাপ্লিকেশন জমা নেয়া বন্ধ করে দিয়েছে। 

ভলান্টিয়ার হিসেবে কাজ করা যায় এবং তা সহজলভ্য। তবে আপনার যদি মাগনা খাটার মন মানসিকতা থাকে তাহলে তা করতে পারেন। যারা স্কলারশীপ বা ফান্ডিং পেয়ে পড়তে আসেন তারা সাধারণত বাহিরে কোথাও কাজ করার অনুমতি পান না তার ফ্যাকাল্টির কাছ থেকে। অফ ক্যাম্পাস কোন চাকরি করতে হলে তাকে না জানিয়ে করতে হয় এখানে। আর কোনমতে যদি জেনে যান ফ্যাকাল্টি তাহলে ফান্ডিং কমিয়ে দিতে পারেন উনি। 

যারা নিজের ফান্ডিং নিয়ে পড়তে আসেন তারা সাধারণত চান যে বিষয়ে পড়তে আসছেন সেই বিষয়ের কিছু কোর্সে যদি ক্রেডিট ট্রান্সফার করা যায় তাহলে খুব ভাল হয়। আপনাদের এখানে জানিয়ে রাখা ভাল যে এই কাজ করে নিজের পায়ে কুড়াল মারার চেয়ে না মারাই ভাল। কারণ আপনি নিশ্চিত থাকুন যে ক্রেডিট ট্রান্সফার করতে চাইলেও আপনাকে কানাডার ইউনিভার্সিটি থেকে দিবে না। তারা আপনাকে উক্ত কোর্সের জন্য অ্যাডভান্স স্ট্যান্ডিং করার অফার করবে। যা আপনি মেনে না নিলেও কিছু করার নেই। করতেই হবে আপনাকে। 

কানাডার নিয়ম কানুন অনেক কড়া। এখানে নিয়ম ভাঙ্গলে জেল জরিমানা কিংবা দেশে পাঠিয়ে দেয়া এসবের নজির ও আছে। এমন অনেক ছাত্র আছে যারা ৬ মাস পুরণ হওয়ার আগেই অফ ক্যাম্পাস চাকরি শুরু করে দেয়। সাবধান! এটা করলে আপনার বিশাল সমস্যা হবে। একবার যদি ধরা পরেন তাহলে ক্ষতি আপনারই হবে। 

থাকা খাওয়ার খরচ বলতে গেলে অনেক বেশি কানাডায়। এক রুমের বাসা ভাড়া ৫০০ ডলার এর উপরে বলতে পারেন। মাঝে মাঝে আবার ৭৫০ ডলার ও হয়। তবে সেই এক রুমে আপনি যদি শেয়ার করে থাকেন কারো সাথে তাহলে তা কমে আসবে। এছাড়া রয়েছে বিভিন্ন ইউটিলিটি বিল। খাওয়ার খরচ নির্ভর করে আপনার উপর। আপনি কিভাবে খরচ করবেন তার উপর। হোস্টেলে যদি থাকতে চান তাহলে খরচের ভিন্নতা আছে। সেটা হোস্টেল ভেদে তা হয়। 

আপনারা বুঝতেই পারছেন যে অন্তত ৬ মাসের থাকা খাওয়ার খরচ পর্যাপ্ত নিয়ে আসতে হবে আপনাকে। যে ইউনিভার্সিটিতে আপনি যে কোর্সের জন্য পড়তে আসতে চাইছেন সেই বিভাগের ডিন কিংবা প্রোগ্রাম অ্যাডভাইজারের সাথে যোগাযোগ রাখুন। কারণ তিনি আপনাকে জানাবেন ভর্তির সব নিয়ম কানুন। তবে মাথায় রাখবেন সবসময় যে ১ টা মেইল দিলে চলবে না। আপনাকে বার বার মেইল করে রিমাইন্ডার দিতে হবে তাদের। আপনি যদি তাদের ১০ টা মেইল দেন তাহলে তারা ১ টা উত্তর দিতে পারে। 

আপনি যদি মে মাসে পড়তে আসেন তাহলে আপনাকে অবশ্যই ৬/৭ মাস আগে থেকেই অ্যাপ্লিকাশন প্রসেস শুরু করতে হবে। কারণ মাঝে মাঝে ইউনিভার্সিটি অফার লেটার পাঠাতে দেরি করে। এর ফলে দেখা যায় যেই সেমিস্টারে আপনি আসতে চেয়েছিলেন সেই সময়ে আপনি আসতে পারছেন না। ফলে ৪ মাস সময় আপনার নষ্ট হয়ে গেল। ইউনিভার্সিটি থেকে অফার লেটার পাওয়ার পরই আপনাকে ভিসা প্রসেস করতে হবে। আর বাংলাদেশ থেকে ভিসা পাওয়া একটু সময় সাপেক্ষ ব্যপার। আর তাই এসব কাজ করার সময় আপনাকে অবশ্যই সঠিক সময় হিসেব করে নিতে হবে। 

আপনার পড়াশোনার যাবতীয় খরচ (স্পন্সর) যিনি বহন করবেন উনি কানাডায় যদি অবস্থান করেন তাহলে তাকে স্পন্সর হিসেবে না দেখানোই ভাল। কারণ এতে আপনার ভিসা পাওয়ার সম্ভাবনা হ্রাস পেতে পারে। আর তাই দেশে থাকে এমন কেউ স্পন্সর করে তাহলেই ভাল হয়। ধরেন আপনি মাষ্টার্স করতে চাচ্ছেন আর তার মেয়াদ ২ বছরের। আপনাকে যিনি স্পন্সর করবেন উনার ১ বছরের ব্যাংক হিসেব থেকে শুরু করে যাবতীয় যত আয়, ব্যায় আছে সব দেখাতে হবে। 

আর একটা কথা। ২ বছরের মাষ্টার্স প্রোগ্রাম হলেও ভিসাতে আপনাকে দেয়া হতে পারে মাত্র দেড় বছরের। এতে খুব বেশি টেনশনের কিছু নেই। কারণ এখানে এসে আপনি ভিসার মেয়াদ বাড়িয়ে নিতে পারবেন।

InstaForex *****লেখাটি ভালো লাগলে আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুণ!*****

সম্পর্কিত আরো কিছু পোস্ট দেখতে পারেন...

জার্মানিতে বিদেশি ছাত্রছাত্রী ও বৃত্তির সুযোগ-সুবিধা সম্পর্কে জেনে নিন বিস্তারিত
ইউরোপে পড়াশোনার জন্য কোন দেশে থাকা -খাওয়ার কেমন খরচ পড়বে ??
সুইডেনে সুইডিশ ইন্সিটিউট স্কলারশিপের বিস্তারিত তথ্য। সুইডেনে উচ্চ শিক্ষা করতে চান? উল্লেখ্যঃস্কলারশি...
বেলজিয়াম সরকার প্রদত্ত বৃত্তি - VLIR-UOS Scholarshin in Belgium
২০১৬ তে ইউরোপের কোন দেশে থাকা -খাওয়ার কেমন খরচ পড়বে ??
ফিনল্যান্ডেও ফ্রি পড়াশুনা করার দিন শেষ!!

সম্পর্কিত আরো কিছু পোস্ট দেখতে পারেন...

এই লেখাটি লিখেছেন...

– সে এই পর্যন্ত 1149 টি পোস্ট লিখেছেন এই সাইট এর জন্য আমিওপারি ডট কম.

আমিওপারি নিয়ে আপনাদের সেবায় নিয়োজিত একজন সাধারণ মানুষ। যদি কোন বিশেষ প্রয়োজন হয় তাহলে আমাকে ফেসবুকে পাবেন এই লিঙ্কে https://www.facebook.com/lesar.hm

লেখকের সাথে যোগাযোগ করুন !

আপনার মন্তব্য লিখুন

{ 2 comments… read them below or add one }

সুজন আগস্ট ১১, ২০১৪ at ৯:১০ পুর্বাহ্ন

আমি গত ৫ বছর ধরে আমার গাড়ি রেগুলার ড্রাইভ করে আসছি। এখন Manitoba তে পড়তে যাব। আমার যে ড্রাইভিং লাইসেন্স, তা সম্পূর্ণ ইংরেজিতে। এখন আমাকে কি “ইন্টারন্যাশনাল ড্রাইভিং লাইসেন্স” নিতে হবে? উল্লেখ্য, আমার ড্রাইভিং লাইসেন্স এখনও Valid.

Reply

Lesar আগস্ট ১১, ২০১৪ at ১০:২৯ পুর্বাহ্ন

ইতালিতে বাংলাদেশি ড্রাইভিং লাইসেন্স দিয়ে ড্রাইভ করা যায় না।

Reply

Leave a Comment