ইউকে ও আয়ারল্যান্ড ইমিগ্রেশন: সতর্কবার্তা

by Lesar on জুলাই ২৭, ২০১৫পোস্ট টি ৬,১১৫ বার পড়া হয়েছে in ইউরোপ ও অন্যান্য দেশের ইম্মিগ্রেশন তথ্য

লন্ডন ভিত্তিক পাকিস্তানি, ভারতীয় ও বাংলাদেশী কিছু ল’ইয়ার ফাঁদ পেতে যুক্তরাজ্য থেকে বাংলাদেশী ও পাকিস্তানী ইমিগ্রেন্টদের আয়ারল্যান্ডে নিয়ে যেভাবে সমস্যার মধ্যে ফেলে দিচ্ছেন তা বর্ণনার বাইরে। কিছু কিছু লোকজন যারা এসাইলাম আবেদন করে যে একটি কার্ড ও সাথে থাকা খাওয়ার ব্যবস্থা পান তাকেই মনে করেন তার এসাইলাম গ্রহণ করা হয়েছে। এরপর যখন ”পিপিএস” কার্ড পান ছবিসহ তখন তাদের বলা হয় যে তোমার কাজের পারমিশন পেয়ে গেছো। আসলে এগুলো ভন্ডামী।
ব্রিটিশ নাগরিক যারা ইউকে তে বেনিফিটে রয়েছেন বা কাজ করছেন তারা আয়ারল্যান্ডে ট্যাক্স দেয়া শুরু করলে একসময় ইউকেতে ফ্রড হিসেবে বিবেচিত হবেন। কারণ ইউকে আর আয়ারল্যান্ডের ইমিগ্রেশন ও রেভেনিউ কম্পিউটার সংযোগ রয়েছে।
আয়ারল্যান্ডে ইউরোপিয়ান নাগরিক বিবাহ করার পরে ভিসা নেয়ার সময় স্বামী ও স্ত্রীকে আলাদা আলাদাভাবে ইন্টারভিউ ব্যবস্থা চালু হয়েছে। ইতিমধ্যেই বিভিন্ন দেশের নাগরিক যারা অবৈধভাবে প্রবেশ করেছে, যাদের ইউকে-তে ফিঙ্গার প্রিন্ট রয়েছে কিন্তু এসাইলাম ঠিকভাবে করতে পারেন নাই; তাদের ডিপোর্ট শুরু হয়েছে। এদিকে যারা কাজ দেখানোর চেষ্টা করছেন তাদের জন্য নতুন বিড়ম্বনা শুরু হয়েছে।

অনেকেই পয়সার বিনিময়ে কাজ দেখাতে গিয়ে এবং অন্যান্য কাজে টাকা পয়সা দিয়ে ধরা খাচ্ছেন। যে সমস্ত ইউ নাগরিক আয়ারল্যান্ড এ বসে বাংলাদেশ থেকে পরিবার আনতে চাচ্ছেন তাদের জন্য অপেক্ষা করছে নতুন সমস্যা। এদিকে ইউ এক্সটেন্ডেড ফ্যামিলী মেম্বার হিসেবে যারা ইউ/ব্রিটিশ স্পন্সর দিয়ে আবেদন করছেন; রক্তের সম্পর্ক ছাড়া কোন স্পন্সরের স্পন্সরেই ভিসা পাওয়া যাবে না। ইউকে তে যেমন এটি ৫% এর কম সফল হয়েছে, আয়ারল্যান্ডেও তাই। যারা ইউকে থেকে লিগ্যাল ওয়ার্ক করাতে চান তাদের কাজগুলো ৯৯% ব্যর্থ হবে প্রসিজিউরাল ভুলের জন্য। আগামী ৪-৬ মাসের মধ্যে ভুলে ভরা ও ভুল মানুষ দিয়ে কাজ করা কাজ গুলোর ফলাফল পেতে শুরু করবে সবাই।

লন্ডনের কিছু ল’ইয়ার ব্রিটিশ নাগরিকদের আয়ারল্যান্ডে নিয়ে ইইউ আইনে তাদের ফ্যামিলি ‘সেটেলমেন্ট ভিসা’র পরিবর্তে C-Visit ভিসায় এনে নতুন সমস্যায় ফেলে দিচ্ছেন। আয়ারল্যান্ডের আইনে C-Visit ভিসায় এসে তা পরিবর্তনের পথ অনেকটাই রুদ্ধ। আর সবচেয়ে বড় কথা ইউকের ল’ইয়ারদের কারুরই আয়ারল্যান্ডে ক্লায়েন্টদের তথ্য সংগ্রহ বা সংরক্ষণের কোন লাইসেন্স নেই।

যুক্তরাজ্য থেকে কিছু ভন্ড ল’ইয়ার ও দালালের মাধ্যমে কোন প্রস্তুতি ছাড়াই হাজার হাজার বাংলাদেশী ও পাকিস্তানী আয়ারল্যান্ডে পাড়ি জমিয়েছে। এদের কেউ না জেনে বুঝে এসাইলামও করেছে; কিছু হাস্যকর কাহিনী দিয়ে। কেউ কেউ ইউরোপিয়ান এক্সটেন্ডেড ফ্যামিলী মেম্বার হিসেবে আবেদনের জন্য এই সব ভন্ডদের দ্বারা অনুপ্রাণিত হচ্ছে। এর বাইরেও আরো নানান প্রলোভন পাচ্ছে নিজের পুঁজি হারানোর ঝুকিতে থাকা মানুষগুলো। আয়ারল্যান্ডেও কিছু দালাল যারা আইন পেশার সাথে জড়িত নেই তাদের খপ্পরে পড়ছে। এদের সবার সামনে মারাত্মক ঝুকি বিদ্যমান। আইরিশ আইনের সাথে সম্পৃক্ততাহীন কোন দালাল বা ল’ইয়ারের পাল্লায় পরে নিজেকে ফতুর করার আগে সবাইকে বিষয়গুলো ভেবে দেখার জন্য অনুরোধ করছি।

ইউকের অনেক ল’ইয়ার ও দালাল নিয়ম ও ক্ষমতা বহির্ভূতভাবে যে সকল ইমিগ্রেন্টদের আয়ারল্যান্ড পাঠাচ্ছেন বিভিন্ন মিথ্যা প্রলোভনে। তাদের একটাই উদ্দেশ্য তা হলো (১) তাত্ক্ষণিক বেশকিছু টাকা পাওয়া এবং (২) কাজটি ব্যর্থ হলেও টাকা ফেরত না দেয়া। কারণ আয়ারল্যান্ডে অকৃতকার্য কোন ব্যক্তি লন্ডনে ফেরত এসে টাকা উঠাতে পারবে না। তাই কাউকে টাকা দেয়ার আগে তার আয়ারল্যান্ডে আইনী এখতিয়ার দেখে তার আইনি পরামর্শ মোতাবেক কাজ করা উচিত। ইউকের ল’ইয়ার নিজে যদি স্বাক্ষর দিয়ে আয়ারল্যান্ডে কাজ করতে না পারেন তবে তার সাথে আয়ারল্যান্ডের কোন ধরনের আইনি কাজ না করা উচিত।
Courtesy: Sheikh Mohiuddin Ahmed

যারা আপনাদের ফেসবুকে আমাদের সাইটের প্রতিটি লেখা পেতে চান তারা এখানে ক্লিক করে আমাদের অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে গিয়ে লাইক দিয়ে রাখতে পারেন। তাহলে আমিওপারিতে প্রকাশিত প্রতিটি লেখা আপনার ফেসবুক নিউজ ফিডে পেয়ে যাবেন। ধন্যবাদ।

InstaForex *****লেখাটি ভালো লাগলে আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুণ!*****

সম্পর্কিত আরো কিছু পোস্ট দেখতে পারেন...

যারা ইতালিতে নাবালক বা এসাইলাম প্রার্থী হিসেবে কাগজ এর জন্য আবেদন করেছেন তাদের প্রসঙ্গে সতর্কবার্তা।
প্রত্যেকের জেনে রাখা প্রয়োজন।সেঞ্জেন ভুক্ত ইউরোপের দেশ গুলোর বিভিন্ন ডকুমেন্টস গুলো চিনে রাখুন।আজকের...
ডেনমার্কে গ্রীন কার্ডে নতুন নিয়ম প্রযোজ্য হবে ২০১৫ সাল থেকে।
সেঞ্জেন ভুক্ত ইউরোপের দেশ গুলোর বিভিন্ন ডকুমেন্টস গুলো চিনে রাখুন।আজকের বিষয় ICELAND
প্রশ্নোত্তর পর্ব-বিষয় ভিসা,রেসিডেন্স পারমিট,ন্যাশনালিটি ইত্যাদি ইন ইউরোপ।
কোন দেশের ভিসা আবেদনের পূর্বে পাসপোর্ট এর মেয়াদের বিষয়টি কেন মাথায় রাখতে হবে?

সম্পর্কিত আরো কিছু পোস্ট দেখতে পারেন...

এই লেখাটি লিখেছেন...

– সে এই পর্যন্ত 1156 টি পোস্ট লিখেছেন এই সাইট এর জন্য আমিওপারি ডট কম.

আমিওপারি নিয়ে আপনাদের সেবায় নিয়োজিত একজন সাধারণ মানুষ। যদি কোন বিশেষ প্রয়োজন হয় তাহলে আমাকে ফেসবুকে পাবেন এই লিঙ্কে https://www.facebook.com/lesar.hm

লেখকের সাথে যোগাযোগ করুন !

আপনার মন্তব্য লিখুন

{ 1 comment… read it below or add one }

Tanvirul Chowdhury জুলাই ২৮, ২০১৫ at ২:২১ পুর্বাহ্ন

thanks bro for this authentic news. However, i know some people in london, who trying to convince immigrant to move Ireland. just came to realize that all about fake and make more horrible.

Reply

Leave a Comment