ইতালিতে আমার সাথে ঘটে যাওয়া কিছু বাস্তব ঘটনা আশা করি আপনাদের ভালো লাগবে ‘কল গার্ল নিয়ে’

by adnan syed on জুলাই ২৪, ২০১৩পোস্ট টি ৭,১০২ বার পড়া হয়েছে in জীবনী

প্রিয় ভাই ও বোনেরা প্রথমেই আমার সালাম নিবেন আশা করি আপনারা সাবাই ভালো আছেন। আমি কিছু দিন আগে আপনাদেরকে আমার সাথে ইতালিতে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনা শেয়ার করেছিলাম,যারা পড়েননি তার পরতে চাইলে এখানে ক্লিক করে পড়ে আসতে পাড়েন।

আমার আজকের ঘটনাটি কিন্তু একটু অদ্ভুত তবে এটাতেও কষ্ট ও হাসি দুটোই রয়েছে। তাহলে আর কথা না বাড়িয়ে ঘটনায় চলে যাই। এটি আমার সাথে যখন ঘটে তখন আমি অন্য একটি আবাসিক হোটেলে দুপরের শিফট এ কাজ করতাম,আমার কাজের সময় বিকেল ৩ টা থেকে রাত ১১ টা পর্যন্ত উল্লেখ্য ইতালিয়ান লীগের নিয়ম অনুযায়ী ইতালিতে প্রতি ৮ ঘণ্টা পর পর প্রতিটি কর্মচারির ডিউটি পরিবর্তন করতে হয় এবং এটি আন্তর্জাতিক নিয়ম। আর আমার কাজের কন্ট্রাক্ট ও সেই আন্তর্জাতিক কন্ট্রাক্ট এর নিয়মেই করা ছিল তাই কাজে ঢুকতাম দুপূর ৩ টায় আর বেড় হতাম রাত ১১ টায় এবং এটি ছিল একটি থ্রী স্টার আবাসিক হোটেল যেখানে মোট রুম ছিল ২৬ টি তাই আলাদা কোন বেল বয় এর প্রয়োজন ছিলোনা, কেননা বিকেল চারটা পর্যন্ত আরো ৭/৮ জন রুম সার্ভিস সহ সকল কাজ করে যেতো তাই বিকেলের পড়ে তেমন কোন কাজ থাকতোনা শুধু রিসিপসন ডেস্কে বসে চেক ইন করা ও ক্লাইন্ত দের ইনফর্মেশন দেওয়া।এখানেও আমি রিসিপসনিস্ত এর কাজ করতাম। তো এখানে আমার সাথে যে ঘটনাটি ঘটলো তার বর্ণনা দিচ্ছি। আমি আমার মতো কাজে জয়েন করি ৩ টায় এবং কাজের নিয়ম অনুযায়ী প্রথমেই হোটেলের রুম সম্পর্কে ধারণা নিয়ে নেই যে আজকে কয়টা রুম খালি রয়েছে ,দেখলাম ৩ টা রুম এখনো খালি রয়েছে এবং উপর থেকে নির্দেশ রয়েছে মোটামুটি দামে রুম গুলে ছেড়ে দিতে।যাক আমি আমার মতো অন্যান্য কাজ গুলো নিয়ে বেস্ত হয়ে পরলাম। সন্ধ্যা ৭ তার দিকে হঠাত এক ইতালিয়ান পুরুষ আসলো আমার কাছে,এসে বলছে তোমাদের হোটেলে কি কোন রুম রয়েছে, উল্লেখ্য ঠিক সেই সময়টায় আমি অন্য একটি কাজে ব্যস্ত ছিলাম তাই আমি ওকে তাড়ানোর জন্য আজাইরা দাম বাড়িয়ে বলে দিলাম আছে কিন্তু ২০০ ইউরো লাগবে। কিন্তু দেখি বান্দা দাম শূনে ওর কোন মাথাব্যেথা নেই ও বলে ঠিক আছে, আমি কি রুমটা দেখতে পারি, এবং আমাকে আগেই জিজ্ঞেস করে,তোমাদের হোটেলে কি বাথরুমে লক সিস্টেম সহ রুম আছে।

 

উল্লেখ্য ইতালিতে প্রায় ৯০% আবাসিক হোটেলের রুমের সাথে এটাচ বাথরুমের লক সিস্টেম থাকে না কেননা প্রয়োজন পড়ে না এবং এটা আইনে নেই তবে যদি কেউ আলাদা ভাবে অনুরোধ করে তাহলে তাদের জন্য হোটেল কর্টিপক্ষ দুই একটা রুম বানিয়ে থাকে যেখানে বাথরুমে লক সিস্টেম থাকবে। তো আমি আগে চেক করে দেখলাম!!হে সেই লক সিস্টেমের রুমটি এখনো খালি রয়েছে, কাজেই আমি ওকে নিয়ে গেলাম রুম দেখাতে ও দেখি রুম না দেখে প্রথমে গিয়ে দেখে বাথরুমের লক সিস্টেম কাজ করে কিনা? এবং ভিতর ও বাহির থেকে লাগছে কিনা? যাই হোক ও ওরমতো দেখে বলে আমি রুমটি এক রাতেও জন্য ভাড়া নিবো, তখন আমি নিয়ম অনুযায়ী ডেস্কে এসে ওর ডকুমেন্ট চেয়ে বলি তুমি একা না সাথে কেউ আছে? ও বলে হে আমার গার্লফ্রেন্ড সহ তবে ও ঘণ্টাখানিক পর আসবে।যাক আমি আর বেশি কথা না বলে হোটেলের রুল অনুযায়ী ওর ডকুমেন্ট রেখে ওকে চেকইন করিয়ে রুমের চাবি দিয়ে দিলাম লোকটি চাবি নিয়ে বাইরে চলে গেলো এবং আমাকে বলে গেলো আমি আমার বান্ধবীকে নিয়ে আসতে যাচ্ছি, আমিও বললাম ‘ওকে চি ভেদিয়ামো দপো’ মানে পড়ে দেখা হবে।

যাক ঘণ্টা খানিক পড়ে সেই লোকটি তার গার্লফ্রেন্ডকে নিয়ে হাজির হোল এবং হোটেলের নিয়ম অনুযায়ী আমার কাছে উনার ডকুমেন্ট জমা দিয়ে রুমে প্রবেশ করতে হবে মানে রেজিস্ত্রেশন করা। তাই ওরা রুমে প্রবেশ করার আগে আমার কাছে আসলো, তখন আমি মেয়েটির দিকে তাকিয়ে থাকলাম এবং মনে মনে নিজেকে জিজ্ঞেস করতে লাগলাম যে, মেয়েটি কোন দেশী? কারন অনেক বছর যাবত হোটেলে কাজ করার অভিজ্ঞতার কারনে মানুষের মুখ দেখলেই অনেকটা বলে দিতে পারি তার দেশ কোথায়। কিন্তু এই মেয়েটির বেলায় বলতে পারছিলাম না, মেয়েটি দেখতে খুবী সুন্দর অনেকটা পরীর মতো দেখতে বলা যেতে পারে, যেমন  লম্বা, তেমনি ফর্সা, চোখ গুলো বড় বড় এবং চোখের মনি নীল, এক কথায় অতুলনীয় যার বর্ণনা দিয়ে শেষ করা যাবে না। যাই হোক ওরা ওদের ডকুমেন্ট আমার কাছে জমা দিয়ে রুমের দিকে রউনা হোল এবং আমি সাথে সাথে মেয়েটির ডকুমেন্ট নিয়ে দেখার চেষ্টা করলাম মেয়েটির দেশ কোথায়, নিয়ে দেখি ওর দেশ রোমানিয়া, যখনি দেখলাম রোমানিয়া তখনি আমার কেমন জানি মনে হতে থাকলো, কেননা ইতালিতে এই রোমানিয়ার মেয়েরা কল গার্ল হিসেবে সবার কাছে পরিচিত। এদের অবস্থা এতো বহাল যে আপনি ইতালির রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় রাস্তায় এসব মেয়েদের দারিয়ে থাকতে দেখবেন আবার কিছু কিছু রাস্তায় দেখা যায় এরা সম্পূর্ণ উলঙ্গ অবস্থায় বসে গ্রাহকের দৃষ্টি আকর্ষণ করে এবং এদের মধ্যে প্রায় ৮০% হয়ে থাকে সেরকম রুপের অধিকারী। যাই হোক তবে সবাই আর সমান না মানে রোমানিয়ার মেয়ে বলতেই যে খারাপ তা না, এদের মধ্যে আবার অনেক ভালো মেয়েও রয়েছে যা আপনি কল্পনাও করতে পাড়বেন না। যাই হয় আমার ঘটনার সাথে এসব কথা বলছি কেনো, কেননা ঐ মেয়েটির ডকুমেন্টে রোমানিয়ান লেখাটি দেখে কিছুক্ষনের জন্য মনে পড়ে গিয়েছিলো ওদের দেশের মেয়েদের কথা। যাই হোক ওরা কি করে না করে তাতে আমার কিছুই যায় আসেনা, আমি এখানে কাজ করতে এসেছি কাজ করা দিয়ে কথা। আমি আমার কাজে মনোযোগ দিলাম।

পড়ে রাত ১০ তার দিকে লোকটি একা নিচে নেমে এলো এবং আমাকে জিজ্ঞেস করছে, সামনে ভালো খাবারের দোকান কোথায় পাওয়া যাবে, আমি যথারীতি ওকে ভালো করে বুঝিয়ে বলে দিলাম কোথায় যেতে হবে। যাক উনি বাইরে চলে গেলন খাবার ক্রয় করতে এবং এভাবে আধাঘণ্টা হয়ে গেলো তবে আমার কিন্তু সেই দিকে কোন লক্ষ্য নেই,আমি আমার কাজ নিয়ে বেস্ত।

পড়ে কিছুক্ষন পড় আমাদের হোটেলের সাথে ঘেঁষেউঠা অপর পাশের বিল্ডিং এর এক লোক আমার কাছে এসে আমাকে বলছে তোমাদের হোটেলে কি হয়েছে? আমি তো অবাক উনার কোথা শূনে, আমাদের হোটেলে আবার কি হবে। সব কিছুই তোঁ ঠিক আছে, বরং আমি আরো উনাকে জিজ্ঞেস করলাম আপনার সমস্যা কি? তখন উনি আমাকে বললো আমি পাশের বিল্ডিংয়ের চার তলায় থাকি এবং আমার রুমের বাথরুম এবং তোমাদের হোটেলের বাথরুম একটি মাত্র দেয়ালের ব্যবধান, মানে দেয়ালের ওপারে উনার বাথরুম এবং এপারে আমাদের হোটেলের। এবং উনি যা বলল, সে তার বাথরুমে গিয়ে দেখে আমাদের হোটেলের বাথরুমে একটি মেয়ে দরজা ধাক্কা ধাক্কি করছে এবং ‘আইয়ুতা আইয়ুতা’ করছে মানে হেল্প হেল্প করে চিৎকার করছে। তখন আমি তার কোথা শূনে একটু ঘাবরিয়ে গেলাম কেননা চার তলাতেই আমিঘণ্টা খানিক আগে সেই কাপলটিকে রুম ভাড়া দেই,যাক আমি আর দেরি না করে সাথে সাথে উনাকে নিয়ে চার তালার প্রতিটি রুমের এক্সট্রা চাবি নিয়ে হাজির, গিয়ে দেখি ঠিক সেই রুমের ভিতর থেকে মেয়েটি চিল্লাচ্ছে। আমি নকল চাবি দিয়ে রুমের দরজা খুলে ভিতরে ঢুকলাম, ঢুকে  দেখি মেয়েটি বাথরুমের ভিতরে আঁকটা পড়ে আছে, মানে ওকে বাইরে থেকে লক করে রাখা হয়েছে,তখন আমি সাথে সাথে লক করা দরজা খুলতেই দেখি সে সম্পূর্ণ নঙ্গ, তার শরীরে কোন জামা কাপড় নেই, তখন আমি সাথে সাথে তার দিকে জামা এগিয়ে দিলাম এবং তাকে জিজ্ঞেস করলাম কি হয়েছে? তখন মেয়েটির কথা শূনে আমাদের তোঁ মাথা নষ্ট, কি বলে এগুলো।

যা হয়েছিল,লোকটি আসলে ওর কোন পূর্ব পরিচিত বা বয়ফ্রেন্ড ছিল না, মাত্র কিছুক্ষন আগে লোকটি ওকে রাস্তা থেকে ভাড়া করে নিয়ে এসেছে ফুর্তি করার জন্য, এবং ওকে খুব ভালো টাকার লোভ দেখিয়েছিল, তাই মেয়েটিও চলে আসে।

পড়ে যানতে পারলেম মেয়েটির কাছে নগদ ৭০০ ইউরোর মতো ছিলো তার পার্স ব্যাগে এবং সেটি রুমের কোথাও পাওয়া যাচ্ছে না, মানে সেই লোকটি ওকে লোভ দেখিয়ে নিয়ে এসে ওর সাথে ফুর্তি করেছে, করা শেষে মেয়েটি যখন বাথরুমে গিয়েছে তখন সেই সুযোগটি কাজে লাগিয়ে ওকে বাইরে থেকে লক করে ওর ব্যাগ, মোবাইল ইত্যাদি যা ছিল তা নিয়ে পালিয়েছে সাথে আমাকেও বাঁশ দিয়ে গেছে, মানে হোটেল ভাড়া না দিয়ে সুযোগে কেটে পড়েছে। যখন আমি পুলিশ এর কাছে ফোন করি পুলিশ এসে ওর ডকুমেন্ট এর নাম্বার দিয়ে তাদের ডাটাএন্তিতে সার্চ দিয়ে দেখে সেই নামে কোন ডকুমেন্ট  নেই ওদের ডাটাবেজে মানে ও আমাকে যে ডকুমেন্টটি দিয়েছিল সেটিও ছিল দুইনাম্বার। তাই পুলিশ এব্যাপার নিয়ে কিছুই করতে পারলো না।

তাহলে এবার ভাবুন বাটপার শুধু যে আমাদের দেশেই রয়েছে তা নয়, বাটপার পৃথিবীর সব দেশেই রয়েছে। তবে এরকম বাটপার আমার জীবনে এই প্রথম দেখেলাম যে, আসহায় ও অবলা নারীর সাথে এভাবে বাটপারি করে জীবিকা নির্বাহ করে তাও আবার ইউরোপের মতো একটি রাষ্ট্রে। আসলে ও সালা পুরুষ নামের কলঙ্ক। যাই হোক এই ঘটনায় আমি কঠিন একটি শিক্ষা পেলাম, সাথে মেয়েটিও সেই রকম একটা অভিজ্ঞতা অর্জন করলো, এবং সব মিলিয়ে কানে ধরলাম এর পর থেকে আর জিবনেও টাকা না নিয়ে হোটেলে রুম ভাড়া দিবো না। আর হে আপনারা যারা এখনো ইতালির হোটেলে বা ইউরোপের যে কোন আবাসিক হোটেলে কাজ করছেন তারা একটু সতর্ক থাকবেন ধন্যবাদ। আবার আর একদিন আমার তৃতীয় ঘটনাটি নিয়ে আপনাদের কাছে হাজির হবো সেই পর্যন্ত ভালো থাকবেন।

[[ আপনি জানেন কি? আমাদের সাইটে আপনিও পারবেন আপনার নিজের লেখা জমা দেওয়ার মাধ্যমে আপনার বা আপনার এলাকার খবর তুলে ধরতে জানতেএখানে ক্লিক করুণতুলে ধরুন  নিজে জানুন এবং অন্যকে জানান ]] আর আমাদের ফেসবুক ফ্যানপেজে রয়েছে অনেক মজার মজার সব ভিডিও সহ আরো অনেক মজার মজার টিপস  তাই এগুলো থেকে  বঞ্চিত হতে না চাইলে এক্ষনি আমাদের ফেসবুক ফ্যানপেজে লাইক দিয়ে আসুন। আমাদের ফেসবুক ফ্যানপেজে যেতে এখানে ক্লিক করুন।  

InstaForex *****লেখাটি ভালো লাগলে আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুণ!*****

সম্পর্কিত আরো কিছু পোস্ট দেখতে পারেন...

প্রবাসী বাঙালি এক নারী শিক্ষক ও লেখিকার কথা
আরাফাতের মাঠে দৃষ্টিশক্তি ফিরে পেলেন তিউনিশিয় বৃদ্ধা
আমাকে ভিক্ষা দিন, আমাকে সুন্দর একটা বাংলাদেশ ভিক্ষা দিন
ইতালির বোলজানো থেকে জাহাঙ্গীর আলম সিকদার, হবে হবে কবে হবে ? কথায় না বড় হয়ে কাজে বড় হবে।
পোড়া মরিচের কেরামতি!! না পরলে মিস করবেন?
শিশু নির্যাতনের ভিডিওচিত্র!!

এই লেখাটি লিখেছেন...

– সে এই পর্যন্ত 2 টি পোস্ট লিখেছেন এই সাইট এর জন্য আমিওপারি ডট কম.

আমি একজন সাধারন মানুষ। অনেক দিন যাবত প্রবাসে থাকি। কাজ করি একটি আবাসিক হোটেলে। হাতে অনেক সময় পড়ে থাকে তাই ইন্টারনেট নিয়ে বেস্ত থাকি ও চেষ্টা করি নিজের সাথে ঘটা অভিজ্ঞতা গুলো অন্নের সাথে শেয়ার করতে।

লেখকের সাথে যোগাযোগ করুন !

আপনার মন্তব্য লিখুন

{ 0 comments… add one now }

Leave a Comment